কাফনের কাপড় জড়িয়ে নারায়ণগঞ্জের ৭০ সাংবাদিক এখন ‘জিন্দা লাশ’ !

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ যেন সাংবাদিকদের জন্য আতঙ্কপুরীতে পরিণত হয়েছে। মাদক কারবারী, সন্ত্রাসী, অস্ত্রবাজদের বিরুদ্ধে অব্যাহত সংবাদ প্রকাশের জেরে দুষ্কৃতিকারীরা একাট্টা হয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। গত কয়েকদিনের অব্যাহত হুমকির মুখে সাংবাদিকরা এখন আতঙ্ক আর শঙ্কার মধ্য দিয়ে সংবাদ সংগ্রহের কাজ করছে। সর্বশেষ গত বুধবার ছাত্রলীগের ক্যাডাররা রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবে ঢুকে কর্মরত সাংবাদিকদের হত্যা করার হুমকি দেয়।




ছাত্রলীগের ক্যাডারদের গ্রেফতার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বৃহষ্পতিবার দুপুরে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের কর্মরত সাংবাদিকরা রূপগঞ্জ থানার সামনে প্রতিবাদ জানায়। এসময় সাংবাদিকরা শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ে। পরে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কলামিষ্ট মীর আব্দুল আলীমের অনুরোধে সাংবাদিকরা প্রতিবাদ তুলে নেয়। সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় রূপগঞ্জের সুশীল সমাজ, রাজনীতিবীদ ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে।
রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা জানান, গত ৫ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল ফাতে মো. সফিকুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ঢাকা ভিলেজ নামক একটি আবাসন প্রকপ্লের দখলে থাকা প্রায় ১৮ বিঘা সরকারী অর্পিত সম্পত্তি উদ্ধার করেন। এসব সরকারী সম্পত্তি রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি, সাজাপ্রাপ্ত আসামী মাসুম চৌধুরী অপু ঐ আবাসন কোম্পানীর পক্ষ হয়ে জোরপূর্বক বালু ভরাট করে দেয়। সরকারী সম্পত্তি উদ্ধারের ঘটনায় বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় স্বভাবত কারণেই সংবাদে অপুর নামও প্রকাশ হয়।
এর জেরে বুধবার দুপুরে মাসুম চৌধুরী অপু ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয়দানকারী হাফিজুর রহমান সজীবের নেতৃত্বে তাদের বাহিনী পুলিশ নিয়ে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সশস্ত্র অবস্থায় মোটরসাইকেল মহড়া দেয়। পরে প্রেসক্লাবে ঢুকে কর্মরত ৩৭ সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ছাত্রলীগের ক্যাডারদের হুমকির পর আতঙ্কিত সাংবাদিকরা প্রাণের ভয়ে প্রেসক্লাবে তালা ঝুলিয়ে বাসায় ফিরে যান।

SHARE THIS

Author:

0 Comments: